বৃহস্পতিবার । মে ২৩, ২০১৯ । । ০৩:১৮ পিএম

সিরাজগঞ্জে শুরু হল স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন উন্নয়ন

সৈনূই জুয়েল | নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশিত: 2018-03-14 14:21:59 BdST হালনাগাদ: 2018-04-18 14:00:33 BdST

Share on

প্রকল্প পরিচালক এসএএম ফজলুল কবির সিরাজগঞ্জের রাণীগ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন

সিরাজগঞ্জে শুরু হল জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবন ব্যবস্থা প্রকল্প (এলআইসিএইচএসপি)।

 

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে চলমান এই প্রকল্পের জন্য সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রাণীগ্রাম ও প্রামাণিক নগরকে নির্বাচন করা হয়েছে।

 

প্রকল্পের আওতায় রাণীগ্রামে প্রায় আট (৭ দশমিক ৯২) একর জমি নির্ধারণ করে তাতে বসবাসরত মানুষের জীবনমান, এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ, বসবাসযোগ্যতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবসহ নানা বিষয়ে সমীক্ষা ও পরিদর্শন করা হয়েছে। চলতি মাসেই সেলামীর বিপরীতে জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া শেষ হবে।

 এলআইসিএইচএসপি প্রকল্প এগিয়ে নিতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক ডাঃ হাবীবে মিল্লাত মুন্নাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন গৃহায়নের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান

রাণীগ্রামে স্বল্প আয়ের মানুষের দুটি কমিউনিটি নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে রয়েছে ২৯২টি পরিবার। স্বল্প আয়ের এসব পরিবারকে উন্নত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এই প্রকল্প। প্রামাণিক নগরেও প্রাথমিকভাবে একটি কমিউনিটি নির্বাচন করা হয়েছে।

 

স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবন ব্যবস্থা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) এসএএম ফজলুল কবির নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমরা সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের রাণীগ্রাম পরিদর্শন করেছি, বসবাসরত মানুষদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের জীবনমান পর্যবেক্ষণ করেছি। তারা সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

 সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রাণীগ্রাম এলাকার বর্তমান চিত্র। এলআইএইচএসপি প্রকল্পের আওতায় এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নত করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, সিরাজগঞ্জের দুটি এলাকায় তিনটি কমিউনিটিতে বস্তিবাসীদের একত্রিত করে তাদের বসবাসের স্থায়িত্বসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বস্তি এলাকায় ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও পয়োনালা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করাসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কমিউনিটি সেবা উন্নয়ন করবে এই প্রকল্প।

 

নির্বাচিত পরিবারগুলোকে বাড়ি করার জন্য ঋণ সহায়তা দেবে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।

 

কত সুদে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো আবাসন ঋণ পাবে- জানতে চাইলে এসএএম ফজলুল কবির নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমরা পিকেএসএফকে একক অংকের সুদে ঋণ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলাম।

 সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রাণীগ্রাম এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন এসএএম ফজলুল কবির

এদিকে পিকেএসএফ’এর উপ-মহাব্যবস্থাপক একেএম নুরুজ্জামান নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী আমরা ১২ শতাংশ সুদে ঋণ দিব। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই সাপেক্ষে পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হবে।

 

প্রকল্প গ্রহণের শুরুর দিকে সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লা শহরে ৩০টি কমিউনিটিতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করে প্রতি শহরে সাতটি করে দুই শহরে প্রাথমিকভাবে ১৪টি কমিউনিটি নির্বাচন করা হয়।

 

সেই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জ শহরে শুরু হল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ। এখন চলছে প্রকল্পের কমিউনিটি একত্রীকরণ (মবিলাইজেশন), জমি নির্বাচন ও অধিগ্রহণের কাজ।

 সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রাণীগ্রাম এলাকার চিত্র ঘুরে দেখছেন এসএএম ফজলুল কবির ও তার দল

এরপর এই কার্যক্রম যথাক্রমে কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে চলবে। এই কার্যক্রম শেষ হবার পর তিন শহরে একই সঙ্গে সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

 

সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরে বৈধ ও অবৈধভাবে বস্তি এলাকায় বসবাসরত স্বল্প আয়ের ৫ হাজার ৭০০ পরিবারকে উন্নত আবাসনের আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০১৬ সালের এপ্রিলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ একটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্প চলবে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত।

 

এসব শহরে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা দেবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এর জন্য বরাদ্দ ৩০৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এই টাকার মধ্যে ২৪৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার যোগান দেবে বিশ্বব্যাংক। আর ৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা প্রদান করবে সরকার।

 

প্রতি কমিউনিটিতে ৩০০ পরিবার হিসেবে তিনটি শহরে পাঁচ হাজার ৭০০ পরিবারকে ১৯টি কমিউনিটিতে ভাগ করা হয়েছে।

 

এসব পরিবারকে বাড়ি তৈরি করার জন্য ঋণ সহায়তা দেয়া হবে। প্রত্যেক পরিবার সক্ষমতা অনুযায়ী দুই লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। ১২ শতাংশ সুদে এ ঋণ পাঁচ বছরে পরিশোধ করা যাবে। ঋণ পরিশোধ সাপেক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় ঋণ নিতে পারবে তারা।

 সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রাণীগ্রাম এলাকার বর্তমান অবস্থা ঘুরে দেখছেন এসএএম ফজলুল কবির ও তার দল

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবন ব্যবস্থা প্রকল্পে এপর্যন্ত অর্থছাড় হয়েছে ২১ কোটি টাকা, যার মধ্যে বিশ্বব্যাংক ১২ কোটি ও বাংলাদেশ সরকার ৯ কোটি টাকা দিয়েছে।

 

প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা আইএমসি ওয়ার্ল্ডওয়াইড। এই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ১৯৮৫ সাল থেকে কাজ করছে। চলমান ও সম্পন্ন মিলিয়ে বাংলাদেশে রয়েছে তাদের ৩০টিরও বেশি প্রকল্প।



  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত